অল্প পূজিতে সেরা লাভজনক ব্যবসার ধারনা

স্বাধীন পেশা হিসেবে আমরা সবাই ব্যবসায়কে বুঝে থাকি। কারণ ব্যবসায় হলো একমাত্র স্বাধীন পেশা। অল্প পূজিতে সেরা লাভজনক ব্যবসার সর্ম্পকে জানব আজকে। এখানে আপনাকে অন্য কারও অধীনে থেকে কাজ করতে হয় না। অনেকেই এজন্য ব্যবসায়কে পছন্দ করে থাকেন। আজকের এই ব্লগে আমরা বর্তমানে লাভজনক ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করব।

যদি আপনি অন্যের অধীনে কাজ না করে, নিজেই নিজের জন্য কিছু করার তাহলে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে ব্যবসা করার জন্য আপনাকে সেই ব্যবসাটি সম্পর্কে ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে। হুট করে আপনি যে কোন ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না। যে কোন ব্যবসা শুরু করলে আপনি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এছাড়াও ব্যবসার ধরন অনুযায়ী আপনাকে মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে মূলধনের জোগান দেওয়ার বিষয়ক চিন্তা ভাবনা করতে হবে। এই সব কিছু নিয়েই আজকে আলোচনা করা হবে।

ব্যবসায় কি

ঝুঁকি আছে জেনেও অনিশ্চিত লাভের আশায় মূলধন বিনিয়োগ করাকেই ব্যবসায় বলা হয়। সাধারণত যে কোনো ব্যবসায় ঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে। সেটি ছোট-বড় কিংবা মাঝারি ধরনের ব্যবসা। প্রত্যেকটি ব্যবসায় ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে। যেমন আপনি একটি গাড়ি কিনলেন ভাড়া দেওয়ার জন্য। সে ক্ষেত্রে আপনার গাড়িটি যে কোন সময় রাস্তায় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। আপনি বাজার একটি কাপড়ের দোকান দিলেন। সে ক্ষেত্রে আপনার কাপড়ের দোকানে যে কোন সময় আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে।

অতএব আমরা বুঝতে পারি যে যেকোন ধরনের ব্যবসায় ঝুকি বিদ্যমান থাকে। তাই যারা ঝুকি গ্রহণের মানসিকতা রয়েছে তারা এই ব্যবসায় করতে পারে। ঝুকি গ্রহণের মানসিকতা না থাকলে আপনি কখনোই ব্যবসায় সফল হতে পারবেন না। কারণ একবার ব্যবসায় বিফল হলে আপনাকে অবশ্যই অদম্য সাহস এবং শক্তি নিয়ে দ্বিতীয়বার শুরু করতে হবে। কারণ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, আপনি কিন্তু পরেরবার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এমনটা নয়। তাই যাদের ঝুকি গ্রহণের মানসিকতা রয়েছে তাদের কি ব্যবসা শুরু করা উচিত।

কোন ধরনের ব্যবসা করবেন

যে কোন ব্যবসা শুরু করার পূর্বে তার সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। কারন আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে কিন্তু সফল হতে পারবেন না। আপনি যে পন্যটি বিক্রি করতে যাচ্ছেন সে পণ্য সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে। বর্তমান সময়ে দুই উপায় ব্যবসা করার সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে এবং অফলাইনে দুইভাবেই বর্তমান খুব জনপ্রিয়। তবে আজকের এই ব্লগে আমরা অফলাইনে বিভিন্ন ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করব। পরবর্তীতে কোন একটি ব্লগে আমরা অনলাইনে বিভিন্ন ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

অফলাইন আপনি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতে পারবেন। এর মধ্যে অল্প পুঁজির ব্যবসা গুলো সম্পর্কে আমরা জানবো। যে ব্যবসা গুলি আপনি খুবই অল্প পরিমাণ পুঁজি দিয়ে শুরু করতে পারেন। এছাড়াও এই ধরনের ব্যবসা গুলোতে আপনি বেশ ভালো পরিমাণে লাভবান হতে পারবেন। নিজের বেশ কিছু অল্প পুঁজির ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

কাপড়ের দোকান

অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আপনার নিজের ইচ্ছামত লভ্যাংশ নির্ধারণ করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি সীমা লঙ্গন করতে পারবেন না। আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিমাণে মুনাফা করতে হবে। যেমন আপনি চাইলে 200 টাকা দিয়ে একটি কাপড় ক্রয় করে 500 টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। আবার 200 টাকা দিয়ে কাপড় ক্রয় করে সেটি 300 টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। যদি আপনি ভালো কোন জনবহুল স্থানে কাপড়ের দোকান দিতে পারেন।

তাহলে অনেক ভাল ব্যবসা করতে পারবেন। লাভজনক ব্যবসার মধ্যে তাই আমি এই ব্যবসাটি কে এক নম্বরে রেখেছি। যা আপনি খুবই কম পুজির মাধ্যমে শুরু করতে পারবেন। পরবর্তীতে আপনি আস্তে আস্তে আপনার ব্যবসার পুঁজি বাড়াতে পারবেন। তাই আমি মনে করি অল্প পুঁজিতে লাভজনক এর মধ্যে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়।

খাবারের হোটেল

খাবারের হোটেল সবচেয়ে জনপ্রিয় আরো একটি ব্যবসা। এর মধ্যে পড়ে সাধারণত জনবহুল স্থানে এই ধরনের ব্যবসায় দিতে পারেন। যেখানে প্রচুর পরিমাণে লোকজনের আসা-যাওয়া রয়েছে। বলতে গেলে বিভিন্ন স্থান থেকে নতুন নতুন মানুষ আছে এরকম স্থানে খাবারের হোটেল বেশি লাভজনক হয়। কারণ দূরের মানুষ যখন আসবে তখন তারা নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তাই আপনাকে খাবারের হোটেল দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থান নির্বাচনটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আপনার নিজের ইচ্ছা মতো যেখানে সেখানে খাবারের হোটেল দিলে কিন্তু ভালো ব্যবসা করতে পারবেন না। দুই ভাবে শুরু করা যায় আপনি চাইলে খুবই ভালো ভাবে জাঁকজমকপূর্ণ করে তৈরি করতে পারেন। এছাড়াও আপনি চাইলে অল্প পুঁজির মাধ্যমে খাবারের দোকান দিতে পারবেন। আমরা সাধারণত যেসব দেখতে পাই আপনি শুরু করতে পারেন। তবে আপনি যদি বড় আকারের শুরু করেন সেক্ষেত্রে খাবারের দাম বেশি নিতে হবে। কারণ সেখানে আপনার অনেক বেশি পরিমাণে ইনভেস্ট করতে হবে। আমরা দেখতে পাই যে বড় ধরনের হোটেলগুলোতে যে খাবারের দাম 500 টাকা। একই খাবারের দাম 200 টাকা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে পার্থক্য স্থানের।

কিন্তু খাবার তৈরি করার খরচ কিন্তু একই রকম হয়ে থাকে। আপনি যে খাবারটি 200 টাকা দিয়ে বিক্রি করবেন। তার যদি একশ টাকা পাঁচশ টাকার খাবারের কিন্তু একশ টাকা হবে। কিন্তু পরিবর্তনের কারণে খাবারের মূল্য পার্থক্য হয়ে যায়। যেমন 15 টাকা দিয়ে কিনতে পারি কিন্তু এয়ারপোর্টে সেই পানির বোতলের আমি অনেক সময় 50 টাকা হয়ে যায়। ঠিক একই রকমভাবে স্থান ও পরিবেশের কারণে খাবার বা বিভিন্ন পণ্যের দাম কম বেশি হয়ে থাকে।

লাইব্রেরী

যদি আপনি একজন শিক্ষক হয়ে থাকেন তাহলে একটি লাইব্রেরী ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই কাজটি আপনি অন্য কোন কাজের পাশাপাশি আয় করতে পারবেন। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনি লাইব্রেরী চালাতে পারেন। এর ফলে বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীরা আপনার দোকানের নির্দিষ্ট টাইম জানা থাকলেই হবে। এ ব্যাপারটি আপনি বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বা কোচিং সেন্টারের আশেপাশে শুরু করবেন।

তাহলে খুব সহজেই সফলতা লাভ করতে পারবেন। এই ব্যবসাটি করার জন্য আপনাকে অনেক বেশি পরিমাণে মূলধন বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে না। খুবই ছোট একটি দোকানের মাধ্যমে আপনি লাইব্রেরী শুরু করতে পারবেন। লাইব্রেরীর পাশাপাশি আপনি বিভিন্ন স্কুল-কলেজের অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করতে পারেন। যেমন খাতা-কলম স্কুল কলেজের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারবেন।

জুতার দোকান

পৃথিবী যতদিন রয়েছে ততদিন আমাদের মানুষের জুতার প্রয়োজন হবে। তাই কাপড়চোপড়, জুতা, এই ধরনের ব্যবসা সারা জীবনই থাকবে বলা হয়। তাই আপনি জেনে জুতার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। খুবই কম টাকার মধ্যে আপনি এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। আপনার আশেপাশের যেকোনো বাজার অথবা জনবহুল স্থানে জুতার ব্যবসা করতে পারেন। এ ব্যবসা গুলো করার জন্য আপনাকে অনেক বেশী জ্ঞান থাকার প্রয়োজন নেই। আপনি আস্তে আস্তে অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করলেই ব্যবসা সম্পর্কে বুঝতে পারবেন। পরবর্তীতে আপনি ব্যবসা সম্পর্কে সঠিক ধারণা হলে বেশি পরিমাণে পুঁজি বিনিয়োগ করে শুরু করতে পারবেন।

খেলনার দোকান

বাচ্চাদের খেলনা খুবই জনপ্রিয়। মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেকটাই বিলাসিতা হয়ে গেছে। প্রত্যেকেই তাদের নিজের হাতের সন্তানদেরকে খেলনা কিনে দিতে পছন্দ করে। যেকোনো স্থানে বাইরে বেড়াতে গেলে খেলনা কিনে থাকেন। তাই আপনি চাইলে জনবহুল স্থানে বাচ্চাদের খেলনা বিক্রি করতে পারেন। কারন এই ব্যবসাটি করার জন্য আপনাকে খুব বেশি পরিমাণে মূলধন বিনিয়োগ করতে পারবে না। যে আজকে আমরা অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চাই। অল্প পুঁজি দিয়ে করা যায় এরকম ব্যবসায়ী গুলোই আপনাদেরকে জানাতে এসেছি। আমি আপনি চাইলে আপনার আশেপাশে যে কোন স্থানে বাচ্চাদের খেলনার দোকান দিতে পারেন।

ফটোগ্রাফির দোকান

যদি আপনি ক্যামেরা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন, ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করেন, তাহলে এই ব্যবসাটি আপনার জন্য। অন্য কারো জন্য এই ব্যবসাটি উপযুক্ত বলে মনে করি না। যারা শখের বসে ছবি তুলতে পছন্দ করেন, তারা চাইলে এটাকে ব্যবসায়ী রূপ দিতে পারেন। আপনাকে কাজে লাগিয়েই আপনি টাকা আয় করার পথ বেছে নিতে পারবেন। বর্তমান সময়ে সবাই বিলাসিতার সাথে জড়িত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অথবা ফটোগ্রাফারদের ঢাকা হয়ে থাকে। তাদের মাধ্যমে আনন্দের মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করে রাখতে চাই।

সকলে অনেক সময়ই আনন্দের মুহূর্ত গুলো ভিডিও করার প্রয়োজন পড়ে। তাই আপনি চাইলে একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে এই কাজটি শুরু করতে পারেন। এ কাজটি করার জন্য আপনার অবশ্যই ভালো মানের ক্যামেরার প্রয়োজন হবে। এর পাশাপাশি কম্পিউটারের প্রয়োজন হবে। এই দুইটি জিনিস আপনার খুব বেশি পরিমাণে ইনভেস্ট করতে হবে না। আপনি মোটামুটি মানের একটি কম্পিউটারের মাধ্যমে ফটোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

মুদি দোকান

আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সবকিছু ক্রয় করার জন্য মোদি দোকানের প্রয়োজন হয়। আপনি চাইলে অল্প পুজিতে মুদি দোকান শুরু করতে পারেন। সবচেয়ে কম পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করা যায়। কারণ এই ভাষাটি আপনি চাইলে শুধুমাত্র একটি পণ্য শুরু করতে পারবেন। পরবর্তীতে আপনার প্রতি অনুযায়ী এভাবেই বাড়াতে পারবেন। এরা সাধারণত অল্প করে থাকে। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে ব্যবসা করে থাকে। অর্থাৎ আপনার যেকোনো একটি ছোট দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। অল্প কিছু মালামাল দিয়ে শুরু করা যায়। পরবর্তীতে আপনার দোকানের সংখ্যা বাড়াতে পারবেন।

স্টেশনারি শপ

অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসার মধ্যে এটি খুবই জনপ্রিয়। আমরা বিভিন্ন স্থানে স্টেশনারি সব দেখে। দেখেই ধরনের দোকানের সাধারণত ছোটখাটো দরকারি বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করা হয়ে থাকে। তাই এই ব্যবসাটি অল্প পুঁজি দিয়ে করা সম্ভব। আপনিও যদি অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসা করতে চান, তাহলে এটিও করতে পারেন। আপনার আশেপাশে যে কোন জনবহুল স্থানে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। এছাড়াও যেখানে প্রচুর পরিমাণে মানুষের যাতায়াত রয়েছে। সেসব স্থানে স্টেশনারি সবগুলো ভাল চলতে থাকে।

শেষ কথা

বন্ধুরা আজকে আমরা লাভজনক বেশ কয়েকটি ব্যবসা সম্পর্কে জেনেছেন। পরবর্তীতে আমরা এরকম আরো বিভিন্ন লাভজনক ব্যবসার ধারনা আপনাদের জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করবো। যদি আপনি নিয়মিত এই ধরনের টিপস পেতে চান, তাহলে আমাদের সাইটটি ভিজিট করবেন। নিয়মিত আমাদের সাইটে এই ধরনের পোস্টগুলো নিয়মিত লেখালেখি করে থাকি। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

 

আমার আর অন্যান্য পোস্ট 

১২ টি ক্ষুদ্র ব্যবসার তালিকা

 ধন্যবাদ 

Leave a Reply

Your email address will not be published.