ওয়েব ডিজাইন শিখে আয় করার উপায় গুলো জেনে নিন

ওয়েব ডিজাইন শিখে আয় করার অনেক উপায় রয়েছে। আপনাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছি, আচ্ছা আপনি কেন ওয়েব ডিজাইন শিখবেন। ভেবে দেখুন তো সত্যি কি উত্তর আছে আপনার কাছে। হয়তো আপনি উত্তরে বলবেনঃ ইন্টারনেট থেকে আয় করার জন্য। অথবা বলবেন শিখার জন্য। কিন্তু আমি যদি আপনাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করি, কি হবে ওয়েব ডিজাইন শিখে।

আপনি কি সত্যি সত্যি জানেন ইন্টারনেট থেকে কিভাবে আয় করা যায়। আমি জানি অধিকাংশ মানুষের কাছে এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা নেই। এ সম্পর্কে ধারনা না থাকলে হয়তো আমি সফল হতে পারবেন না। এজন্য ওয়েব ডিজাইন শিখা শুরু করার পূর্বে আপনাকে ইন্টারনেট থেখ আয় সর্ম্পকে জানতে হবে।

ওয়েব ডিজাইন শিখে আয়

প্রথমেই বলে নিচ্ছি ইন্টারনেটে চাকরি এবং ব্যবসার দুটোই করা যায়। যেমনটা আমরা আমাদের বাস্তব জীবনে দেখে থাকি। যেমন চাকরি করে স্যালারি নিয়ে আয় করা যায়। আবার ব্যবসা করে আয় করা যায়। তো ঠিক একইভাবে অনলাইনেও চাকরি করা ও ব্যবসা করা যায়। কিভাবে বিষয়টা ক্লিয়ার হবে, যদি এভাবে চিন্তা করি।

সাধারন চাকরি

প্রথমেই আমরা চাকরির কথা বলি। সাধারণত আমাদের জীবনে চাকরির জন্য আমরা কি করি। আমাদের বাস্তব জীবনে চাকরির জন্য সাধারণত যে সিস্টেম মানা হয়, সেটা হচ্ছে। ধরুন আপনি ডাক্তার হবেন। তাহলে ডাক্তারি নিয়ে পড়তে হয়। উকিল হলে ল, ইঞ্জিনিয়ার হলে ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি বিষয়ের উপর পড়াশোনা করতে হয়। পড়াশোনা করে সেটার উপর দক্ষতা অর্জন করতে হয়। এরপরে চাকরি পাওয়ার জন্য ওই বিষয়ক  বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমরা চাকরির জন্য যাই।

সেখানে ইন্টারভিউ দেয় এবং আমাদের দক্ষতার প্রমাণ দেই। তারপর যদি সেই কর্তৃপক্ষ মনে করে, আমি সেই কাজের জন্য দক্ষ। তখন সে আমাকে মাসিক চুক্তি অথবা যত কাজ ততো আয় এই ভিত্তিতে আমাদেরকে চাকরি দিয়ে থাকে। এই হচ্ছে আমাদের চাকরি করার চিরচারিত নিয়ম। তো অনলাইনেও ঠিক একইভাবে এই চাকরি করা যায়। এখানে চাকরি পেতে গেল আপনার প্রথমে কোন বিষয়ের উপর পড়াশোনা করে শিখতে হবে। দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এখন আপনি আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, এই যে আপনি কাজ শিখবেন, দক্ষতা অর্জন করবেন

অনলাইনে চাকরি

ইন্টারনেটে কাজ করার জন্য তাহলে আপনাকে চাকরি দিবে কে। আপনি চাকরি টা কোথায় করবেন, কিভাবে করবেন। বাস্তব জীবনে ডাক্তারি করার জন্য যেমন হাসপাতালে যেতে হয়। ওকালতি করার জন্য কোর্টে যেতে হয়, শিক্ষকতা করার জন্য স্কুলে যেতে হয়। ঠিক একই ভাবে ইন্টারনেটে কাজ করার জন্য বেশকিছু মার্কেটপ্লেস রয়েছে। যে ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেস গুলোতে আমরা কাজ করতে পারি। যেমন এই ধরনের কিছু জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসঃ

  • Upwork.com
  • Freelancer.com
  • Fiberr.com
  • People per hour

মার্কেটপ্লেস এর সাধারণ সিস্টেম হচ্ছে এরকম একই জায়গায় একই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্কার যাবে। আপনি আমি আমরা যারা অনলাইনে কাজ করি এই টাইপের ওয়ার্কারদের একাউন্ট থাকে। আবার বিভিন্ন ধরনের ক্লাইন্ট এর একাউন্ট থাকে। ক্লাইন্ট মানে হচ্ছে যারা কাজ দিবে চাকরি দিবে। মার্কেটপ্লেসগুলোর কাজ হচ্ছে এই ওয়ার্কার এবং এই ক্লায়েন্ট এই দুইয়ের মধ্যে একটা সমন্বয় ঘটিয়ে দেয়া।

ক্লায়েন্ট এর কাজ

কারণ আপনি তো বাংলাদেশে থাকে জানেন না যে আমেরিকার কোন ক্লায়েন্ট কি কাজ চাচ্ছে। এমন একটা মার্কেটপ্লেস হচ্ছে এই ওয়েবসাইট গুলো। যেখানে বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্ট থাকে। বিভিন্ন দেশের ওয়ার্কাররা ও থাকে। ক্লায়েন্টরা কি করে। ধরে নিন, আপনি ওয়েবসাইট ডিজাইন শিখেছেন কাজ করার জন্য। এখন আপনি সেই ওয়েবসাইট ডিজাইন এর জন্য মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট করেছেন।

ওয়েবসাইট ডিজাইনের কাজ করবেন এই জন্য। এখন আমেরিকার একটি স্কুলের জন্য একটি ওয়েবসাইটের প্রয়োজন। স্কুল কর্তৃপক্ষকে এই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট এ একটি জব সার্কুলার দিল। এটা লিখে যে আমাদের স্কুলের ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য একজন ওয়েব ডিজাইনার প্রয়োজন। তার পাশাপাশি উল্লেখ করে দিলো সেই কাজটির জন্য কত ডলার পেমেন্ট করতে ইচ্ছুক।

আপনি এবং আপনার মত অন্যান্য যারা আছে ওয়ার্কার তারা এই upwork.com একাউন্ট আছে। তারা কি করলেন সেই বিজ্ঞাপন টা দেখলেন। দেখে সেখানে আবেদন করলেন। আবেদন করার পর ঐ স্কুল কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে কাউকে নিবে ইন্টারভিউর জন্য।

এখানে আমাদের বাস্তব জীবনে যেমন আমরা অফিসে গিয়ে ইন্টারভিউ দিই। তাই এখানে অনলাইন ইন্টারভিউ সিস্টেম হচ্ছে আপনার সাথে চ্যাটিং। এর মাধ্যমে ক্লায়েন্ট কিছু তথ্য আদান প্রদান করবে। যাচাই করবে যে আপনি যে কাজটি করতে চাচ্ছেন, সেই কাজ করার মতো পর্যাপ্ত যোগ্যতা আপনার আছে কি না। যদি আপনাকে পছন্দ করে, যদি আপনি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ দিতে পারেন ক্লায়েন্টের কাছে। তখন সে আপনাকে কাজটি দিবেন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস

আপনি যখন ওয়েবসাইট করে ক্লায়েন্টকে সাবমিট করবেন। তখন সে ওই যে  ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস পেমেন্ট করবে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে আপনি সরাসরি বাংলাদেশের যেকোন ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে আপনি বাংলাদেশের যে ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করবেন। অবশ্যই সেই ব্যাংক একাউন্ট অনলাইন হতে হবে।

এক্ষেত্রে বলে নিচ্ছি বাংলাদেশের বেসরকারি সকল ব্যাংক একাউন্টে অনলাইন সাপোর্ট করে। আজকাল সরকারি অনেক ব্যাংক অনলাইন সাপোর্ট করা শুরু করেছে। যেমন অগ্রণী ব্যাংক অনলাইন সাপোর্ট করে। এই ধরনের যেকোনো ব্যাংকের একাউন্টে সরাসরি টাকাটা ট্রান্সফার করে ফেলতে পারবেন।

দেখুন আমাদের বাস্তব জীবনের মতোই অনলাইনে ও ঠিক একই ভাবে আপনি কাজ করতে পারতেছেন। একবার ভেবে দেখুন তো আপনি বাংলাদেশের একটা ঘরে বসে আপনার নিজস্ব রুমে বসে হয়তো ইউরোপ-আমেরিকার কোন ক্লায়েন্টের কাজ দিচ্ছেন। ওই ক্লায়েন্টের সাথে আমি যোগাযোগ করতে চান বিষয়টা কতটা ভালো। এই বিষয়টাকে বলা হয় যে আপনি যে কাজ করতেছেন ক্লায়েন্টের এটা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

ক্লাইন্ট কেন কাজ দিবে

এখন আপনি একটু প্রশ্ন করতে পারেন ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ যে আপনাকে কাজটা দিল। সে আপনাকে কেন কাজটা দিবে। সেটা চাইলে আপওয়ার্কে না গিয়ে তার নিজের দেশের কোন ওয়েব ডিজাইনার কে দিয়ে কাজ করাতে পারতো। আমেরিকাতে এই কাজের জন্য ধরুন 1000 ডলার পেমেন্ট করতে হতো। সেটা  আপনাকে দিয়ে করালে সে মাত্র 400 থেকে 500 ডলারে করিয়ে নিতে পারবে। কারণ হচ্ছে উন্নত দেশ হিসেবে আমেরিকাতে 1000 ডলারের ভ্যালু কম আছে।

তার থেকে আমাদের দেশে 500 থেকে 400 ডলার ভ্যালু অনেক বেশি। কারণ আমাদের দেশে 500 ডলার মানে হচ্ছে 40 হাজার টাকা। 40 হাজার টাকা আয়  করা মানে দেশে অনেক কিছু। কিন্তু আমেরিকাতে 500 তো ভালো কথা, 1000 ডলার আমাদের দেশের 80 হাজার টাকার কোনো মূল্য নেই। আমেরিকাতে কারণ হচ্ছে ওদের দেশে সব কিছু জিনিস অনেক দাম। দেশ যত উন্নত হবে তত জিনিসপত্রের সবকিছুর মূল্যয়ন বেশি থাকবে।

ক্লায়েন্ট কি করল একই কাজ একই জিনিস আমেরিকার কোন ডিজাইনারকে দিয়ে করালো ১০০০ ডলার লাগতো। আপনাকে দিয়ে ৪০০-৫০০ ডলারে করিয়ে নিল। তার কিন্তু ৫০০ ডলার বেঁচে গেল। এই জন্যই মূলত আমাদের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মানুষ দিয়ে এই কাজগুলো ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে করিয়ে নেয়। যে প্রক্রিয়ার এর মাধ্যমে আপনাকে কাজটা করালো সেটাকে বলা হয় আউটসোর্সিং। সে নিজের কাজটা অন্য কাউকে দিয়ে মানে আপনাকে দিয়ে করিয়ে নিল সেটা হচ্ছে আউটসোর্সিং।

ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং

আর আপনি একজন ওয়ার্কার হিসেবে যে ক্লায়েন্টের কাজটা করলেন সেটা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং দুইটা আলাদা জিনিস। কিন্তু আমরা একসাথে বলে থাকি আপনাদের সুবিধার্থে। আশা করি চাকরি পুরো বিষয়টা আপনি বুঝতে পেরেছেন।

এবার আসা যাক ব্যবসার দিকে। আসলে ব্যবসা কিভাবে করবেন। ঠিক একইভাবে বাস্তব জীবনে যেভাবে ব্যবসা করা যায় অনলাইনে কিভাবে ব্যবসা করা যায়। বাস্তব জীবনে কিভাবে ব্যবসা করতে পারি সাধারণত দুই ভাবে। ব্যবসা করতে পারি সরাসরি পন্য বিক্রি করে। বিভিন্ন দোকানে আমরা  পন্য বিক্রি করতে পারি। বিভিন্ন শপিংমলে সরাসরি পন্য বিক্রয় করা হয়। কিন্তু ডাক্তার কোন পন্য বিক্রি করেন না। তারপরও হচ্ছে তার সার্ভিস ব্যবসায়ের অর্ন্তভুক্ত। কোন অসুখ হলে কি ট্যাবলেট খেতে হবে এগুরো ডাক্তার লিখে দেয়। রোগীরা আসে সে শুধু ওগুলা প্রেসক্রিপশন লিখে দেয়।

সাধারন ব্যবসায়

অনলাইনে ও আপনি কিভাবে ব্যবসা করতে পারেন। যেমন সেটা হতে পারে আপনি যেমন বাংলাদেশ ই-কমার্স সাইট আমরা দেখি। তারা বিভিন্ন পন্য বিক্রি করে যেমন মোবাইল, ঘড়ি, মেয়েদের- ছেলেদের জামাপ্যান্ট অনেক কিছু। আপনি নিজেও কোন পন্য তৈরি করতে পারেন। সেটাকে ব্র্যান্ডিং করতে পারেন। ব্যান্ডিং করে আপনি বিভিন্ন জায়গায় মার্কেটিং করতে পারেন। সেখান থেকে বিক্রি বরে লাভ নিয়ে আসতে পারেন।

আপনি অনলাইনে সার্ভিস দিতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ডিজাইন করে দিতে পারেন ডাক্তারের মতো। একটা ডাক্তারের যত বেশি সুনাম হয় যত বেশি দূর দূরান্ত পর্যন্ত যায়। তার সুনাম যত বেশি হয় রোগীও তেমনি বেশি আসে।  ঠিক একই ভাবে আপনার কোম্পানির নিজের নামে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান করবেন। ওয়েব ডিজাইনিং করায় যত বেশি সুনাম অর্জন করতে পারবেন তত বেশি আপনি সেখানে কাজ পাবেন।

অনলাইনে ব্যবসায় শুরু করা

তার মানে হচ্ছে ওয়েব ডিজাইনিং সার্ভিস দিতে পারবেন। এই ওয়েব ডিজাইনিং, ডেভলপমেন্ট আপনি ইন্টারনেটে চাকরি করতে পারবেন। ব্যবসা করতে পারবেন। আপনার সেই দক্ষতার প্রয়োজন হবে। আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন এতক্ষণ আমি বারবার আপনাকে একই কথা বলতেছি। আপনি যেটাই করেন না কেন আপনার দক্ষতা প্রয়োজন। আপনি দক্ষতা অর্জন করতেছেন, যে দক্ষতা দিয়ে আপনি জব করবেন। না হয় ব্যবসায় করবেন।

এটা শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য না। এটা দিয়ে আপনি চাকরি করতে পারেন, ব্যবসা করতে পারেন।  অনেক ওয়েব ডিজাইনিং ফার্ম আছে, সেখানে গিয়ে চাকরি করতে পারেন। শুধুমাত্র ফ্রীলান্সিং আটকে থাকবো না। আমি শুধু একসাথে থাকবো না, আমি চেষ্টা করব সব কিছু করার। আমি চেষ্টা করব নিজের মতো করে নতুন কিছু করা। সেখান থেকে অনেক ভালো পরিমাণ কিছু নিয়ে আসা।

শেষ কথা

আমি এখন কাজ করলাম এখন আয় করব এরকম চিন্তা করি। আমি চিন্তা করবো  সুদুরপ্রসারী। আশাকরি অনলাইন আয় কি কি ভাবে হয় এই বিষয়গুলো  নিয়ে আপনি খুবই বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন। এর পরও যদি আপনার কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট করতে পারেন। আমরা যুক্তিসঙ্গত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সব সময় প্রস্তুত। আপনার অনলাইন ক্যারিয়ার সফল হোক। অনেক অনেক শুভকামনা জানিয়ে শেষ করছি আজকের পর্ব। ভালো থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.